স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস নেই উগান্ডার সেনাপ্রধানের, বন্ধ করলেন ৩ টিভি ও সংবাদপত্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৩৬ এএম
উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা দেশটির শীর্ষস্থানীয় তিনটি সংবাদমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। স্বাধীন গণমাধ্যমে নিজের অনাস্থার কথা প্রকাশ করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেনারেল মুহুজি বলেন, ‘আমি স্বাধীন গণমাধ্যমে বিশ্বাস করি না। গণমাধ্যমকে অবশ্যই বিপ্লবের ক্যাডারদের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতে হবে।’ তিনি উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। একই সঙ্গে তিনি দেশের সব টেলিভিশন চ্যানেল, সংবাদপত্র ও রেডিও স্টেশন বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান। তবে এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
দৈনিক ডেইলি মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী কাম্পালায় তাদের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে সশস্ত্র সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি এনটিভি ও স্পার্ক টিভির সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বন্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলো পূর্ব আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান নেশন মিডিয়া গ্রুপের মালিকানাধীন। বিরোধী দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জেনারেল মুহুজি তাঁর বাবার নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর দমননীতির অন্যতম মুখ। যদিও প্রেসিডেন্ট মুসেভেনির সমর্থকদের দাবি, তাঁর নেতৃত্বেই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে।
৮১ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনি প্রায় চার দশক ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি টানা সপ্তম মেয়াদে বিজয়ী হন। দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন রয়েছে, ভবিষ্যতে তিনি ছেলে মুহুজিকে নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান।
এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে জেনারেল মুহুজি দাবি করেন, তাঁর বাবা তাঁকে যেকোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া এনটিভি ও ডেইলি মনিটর পুনরায় কার্যক্রম শুরু করতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, এখন থেকে উগান্ডার সব গণমাধ্যমকে সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।
ডেইলি মনিটর জানিয়েছে, রোববার ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের কার্যালয় এবং সহযোগী গণমাধ্যমগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্মীদের অভিযোগ, অভিযানের সময় কাউকে কার্যালয়ে প্রবেশ কিংবা বের হতে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে এনটিভি উগান্ডা ও স্পার্ক টিভির দর্শকেরা সম্প্রচারের বদলে শুধু ‘ভিডিও আনঅ্যাভেইলেবল’ বার্তা দেখতে পান।
এর আগে ২০১৩ সালে ‘মুহুজি প্রজেক্ট’ নামে একটি কথিত উত্তরাধিকার পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডেইলি মনিটরের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ। এছাড়া ২০০৭ সালে সরকারবিরোধী সংবাদ প্রচারের অভিযোগে এনটিভির সম্প্রচারও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ডেইলি মনিটরের দাবি, প্রেসিডেন্ট মুসেভেনি দীর্ঘদিন ধরেই পত্রিকাটির সমালোচনা করে আসছেন। একসময় সমালোচনামূলক সাংবাদিকতার কারণে তিনি এটিকে ‘শত্রু ও অশুভ সংবাদপত্র’ বলেও অভিহিত করেছিলেন।
এদিকে উগান্ডার ন্যাশনাল ব্রডকাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, গণমাধ্যম বন্ধের এ সিদ্ধান্ত সংবিধানের পরিপন্থী। তারা এ বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে।
বর্তমানে নির্বাসনে থাকা বিরোধী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ববি ওয়াইন অভিযোগ করেছেন, জেনারেল মুহুজি উগান্ডার অবশিষ্ট স্বাধীন কণ্ঠগুলোকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করছেন। তাঁর ভাষায়, দেশটি এখন এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে আইনের শাসনের পরিবর্তে ভয়ভীতি ও বলপ্রয়োগ প্রাধান্য পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সমাবেশে বাধা, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়নের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘ। যদিও নির্বাচন কমিশনের দাবি ছিল, ভোট অবাধ ও সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।