পাকিস্তানে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলো ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ১১:৪০ এএম
করাচিতে পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে ইসলামাবাদকে অন্যের দিকে অভিযোগের আঙুল না তুলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, করাচির সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্যের দিকে আঙুল তোলার পরিবর্তে পাকিস্তানের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের উচিত নিজ ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও আস্তানার বিরুদ্ধে কার্যকর এবং বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়া। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকেও সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই এ ঘটনায় ভারতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছিলেন।
এদিকে হামলার পরপরই আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে বিমান ও স্থল অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে চালানো অভিযানে অন্তত ২৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-আহরারের আস্তানাগুলো লক্ষ্য করে সীমান্ত এলাকায় স্থল অভিযানও পরিচালনা করা হয়েছে।
গত শনিবার করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় একদল সশস্ত্র হামলাকারী। হামলার দায় স্বীকার করে জামাত-উল-আহরার জানায়, তাদের নয়জন সদস্য ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিল।
হামলায় পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং একজন আফগান নাগরিককে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান সরকার টিটিপি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল প্রশাসন এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের জেরে গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত বন্ধ রয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি