খামেনির মরদেহ নেওয়া হচ্ছে তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে, শেষ শ্রদ্ধায় লাখো মানুষের ঢল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জানাজা শেষে আজ সোমবার (৬ জুলাই) তার মরদেহ ফ্রিডম স্কয়ারে নেওয়া হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে লাখো মানুষ খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের কফিন ঘিরে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের নেতৃত্বের কাছে এসব আয়োজন কেবল শোক প্রকাশের অনুষ্ঠান নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতারও প্রতীক। প্রায় চার দশক দেশ পরিচালনার পর খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় জনগণের আবেগ ও সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এসব আয়োজনে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও নির্বিঘ্নে এগিয়ে চলছে—এ বার্তাই তুলে ধরতে চায় তেহরান।
আজ ফ্রিডম স্কয়ারে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আগামী ৭ জুলাই খামেনির মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে। এরপর ৮ জুলাই মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের কারবালা ও নজফে। সবশেষে ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে তাকে দাফন করা হবে।
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি কে ছিলেন?
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা হন। তার মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ সময় সেই দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৩৯ সালে ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পবিত্র শিয়া নগরী মাশহাদে জন্ম নেওয়া খামেনি ইসলামী বিপ্লবের আগে রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হন।
তার নেতৃত্বে ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়। পাশাপাশি বহিরাগত হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা হয়। তবে তার শাসনামলে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এখনো তিনি প্রকাশ্যে না এলেও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্বের অধীনে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
সূত্র: আল জাজিরা