খামেনির জানাজায় ৭০ দেশের প্রতিনিধি, হরমুজ প্রণালিতে বন্ধুরাষ্ট্রকে সুবিধা দেবে তেহরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তেহরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এই অংশগ্রহণ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
শনিবার (৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আব্বাস আরাগচি জানান, খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিরা তেহরানে এসেছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন আরব দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল, যা ইরানের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আরাগচির ভাষ্য, এই আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এদিকে খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে তেহরানের বিভিন্ন সড়কে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নতুন সার্ভিস ফি চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ইরান। তবে সাম্প্রতিক সংকটের সময় যেসব দেশ ইরানের পাশে ছিল, তাদের জন্য এই ফি-তে বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদুর রেজা রহমানি ফাজলি।
যদিও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তবুও নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি তেহরান। দুই দেশের সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনে হওয়া প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, প্রথম ৬০ দিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে কোনো সার্ভিস ফি নেওয়া হবে না। তবে এরপর কী ধরনের নীতিমালা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রদূত ফাজলি বলেন, কঠিন সময়ে যেসব দেশ ইরানের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থায় তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা বিবেচনা করা হবে।
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ইরান। প্রণালির একটি অংশ ইরানের জলসীমার মধ্যে হওয়ায় সেখানে সার্ভিস ফি আরোপের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এটিকে কোনো টোল বা বাধ্যতামূলক কর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফাজলির দাবি, নতুন এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা, জাহাজ চলাচল কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং অতিরিক্ত নৌযানের কারণে পরিবেশগত ক্ষতি কমিয়ে আনা।
সূত্র: গালফ নিউজ