১০ জনের ইংল্যান্ডের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় মেক্সিকোর
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০২:০২ পিএম
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হওয়া ম্যাচে নাটকীয় লড়াই শেষে ১০ জনের ইংল্যান্ডকে হারাতে পারেনি স্বাগতিক মেক্সিকো। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, চলতি বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর যাত্রা শেষ হয়েছে শেষ ষোলোর বাধাতেই।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। বলের দখল ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে থাকলেও পাল্টা আক্রমণে দুর্দান্ত কার্যকারিতা দেখায় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুড বেলিংহ্যাম। বিরতির ঠিক আগে একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় মেক্সিকো। গোলটি করেন হুলিয়ান কুইনোনেস।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইংল্যান্ড বড় ধাক্কা খায়। ৫৪তম মিনিটে হেসুস গায়ার্দোকে বিপজ্জনক ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জ্যারেল কোয়ানসা। এরপর দীর্ঘ সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইংলিশদের।
একজন কম নিয়েও হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে ব্যবধান ৩-১ করে ইংল্যান্ড। পরে কেইনের করা ফাউল থেকে পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগিয়ে রাউল হিমিনেজ ব্যবধান কমিয়ে ৩-২ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতায় ফিরতে পারেনি মেক্সিকো।
ম্যাচে ৬৭ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল মেক্সিকোর। তারা ১৯টি শট নিয়ে চারটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের পাঁচটি শটের চারটিই ছিল লক্ষ্যে, যার তিনটিই জালে জড়ায়। সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতাই দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম চার ম্যাচে কোনো গোল হজম না করা মেক্সিকো এদিন জুড বেলিংহ্যামকে ঠেকাতে ব্যর্থ হয়। প্রথমার্ধে মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই মিডফিল্ডার।
মেক্সিকোর সমর্থকদের আশা ছিল, ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে দলটি। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। বরং আবারও শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হলো তারা। ১৯৮৬ সালের পর এটি অষ্টমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিল মেক্সিকো।
ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামেও এটি মেক্সিকোর জন্য একটি হতাশার রাত। ১৯৬৬ সালে চালু হওয়া এই ভেন্যুতে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এটি দেশটির তৃতীয় হার।