প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদের মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে উত্থান, প্রশ্নফাঁসেই পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে টানা ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চাপেই দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে তাকে।

ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু। প্রায় তিন দশক আগে প্রশ্নফাঁসবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েই রাজনীতিতে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। আর এবার একই ধরনের অভিযোগের জেরেই শেষ হলো তার শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন।

১৯৯৭ সালে উড়িষ্যার উচ্চ মাধ্যমিক বা ‘প্লাস টু’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। সে সময় ভুবনেশ্বরে রাজ্য সচিবালয়ের সামনে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান।

তৎকালীন আন্দোলনের সময় পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার শরীরের একাধিক হাড় ভেঙে গেলেও তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি বলে জানিয়েছেন তার সাবেক সহপাঠী ও আরএমডি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ প্রশান্ত রাউত।

তিনি বলেন, প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। পুলিশের লাঠিচার্জে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হলেও আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে সরে আসেননি।

ছাত্র আন্দোলনের পর উড়িষ্যা সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সংকট সমাধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করা হয় এবং শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারে বিভিন্ন সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ছাড়াই সম্পন্ন হয়।

পরবর্তীতে ধর্মেন্দ্র প্রধান ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়ে উড়িষ্যায় দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার রাজনৈতিক পথচলার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো উড়িষ্যায় সরকার গঠন করে ভারতীয় জনতা পার্টি, যার মাধ্যমে বিজু জনতা দলের দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটে।

তবে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁস, সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ক এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত ‘নিট’ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সেটি গ্রহণ করেন।

পদত্যাগের ঘোষণায় তিনি বলেন, গত চার দশক ধরে দেশের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করেছেন। শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি আরও জানান, ‘নিট’ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করেছিলেন এবং কখনো দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করেননি। তার লক্ষ্য ছিল কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

খোলা চিঠিতে ধর্মেন্দ্র প্রধান লিখেছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেশের ঐক্য বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী রাখার স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, ২০ লাখেরও বেশি পরীক্ষার্থীর স্বার্থ বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন রাজ্যের সহযোগিতায় ২১ জুন পুনরায় ‘নিট’ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৬ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ সময় কিছু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবরে আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস দেখা যায়। যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীরা এটিকে তাদের আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে উদযাপন করেন।

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ বলেন, এটি গণতন্ত্রের বিজয়। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থী ও তরুণদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970