উত্তর ইরাকের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলা, নতুন করে বাড়ল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
উত্তর ইরাকের কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে সুলাইমানিয়া প্রদেশে অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। খোর মোর গ্যাসক্ষেত্র থেকে কুর্দি অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
একই সময়ে হামলার স্থান থেকে প্রায় দুইশ কিলোমিটার দূরে কুর্দি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের কয়েকটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরাকের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও ইরানের একটি বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের কাছাকাছি এলাকাসহ অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া পুলিশের তথ্যে বলা হয়েছে, এরবিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খালিফান ও সোরান এলাকার বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অন্তত চারটি ইরানি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, হামলার পরপরই এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের দশটির বেশি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন টহল দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে লক্ষ্যবস্তু এলাকা ও আশপাশে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি এসে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, টানা তেরো রাত হামলার পর গত শুক্রবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করে। হামলা বন্ধের পর ইরানও পাল্টা হামলা থেকে বিরত ছিল। তবে এর মধ্যেই উত্তর ইরাকে নতুন করে ড্রোন হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। যদিও দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার মিশিগানে যাওয়ার পথে রাষ্ট্রপতির উড়োজাহাজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।