প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারতে কঠোর আইন, ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রেখে লোকসভায় বিল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
ভারতের পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অসাধু উপায়ে জালিয়াতি বন্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে লোকসভায় নতুন একটি সংশোধনী বিল উত্থাপন করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিরোধী দলগুলোর তীব্র হট্টগোল ও স্লোগানের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং বিলটি লোকসভায় উপস্থাপন করেন। পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬ নামে প্রস্তাবিত এ আইনে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিলটি আইনে পরিণত হলে, কোনো পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি রাজ্যে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনেরও প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
তবে বিলটি উত্থাপনের সময় কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সংসদ সদস্যরা ব্যাপক হট্টগোল করেন। তাদের দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পাস করা উচিত।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর ইস্যুতে সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি মূল সমস্যার সমাধানের বদলে ‘লোকদেখানো’ উদ্যোগ।
এ পরিস্থিতিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সব রাজনৈতিক দলকে বিলটি নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বিলের বিভিন্ন ধারার ওপর সংশোধনী প্রস্তাব জমা দেওয়ারও আহ্বান জানান। তবে বিরোধীদের লাগাতার হট্টগোলের কারণে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন দফায় দফায় মুলতবি করতে হয়।
সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটসহ বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং তা ঘিরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মোদি সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে তার সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি পরীক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কার আনতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
সূত্র: এনডিটিভি, বিবিসি