২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে বেঁচে থাকা শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলেকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম
কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলসংলগ্ন পশ্চিম বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রীলঙ্কার দুই জেলেকে নিজ দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের প্রথমে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে। এরপর শ্রীলঙ্কার দূতাবাস ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে তাদের স্বদেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া বাবা-ছেলে বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে তাদের ঢাকার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি শ্রীলঙ্কার দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও জানানো হয়েছে।
গত শুক্রবার মহেশখালীর স্থানীয় জেলেরা পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভাসতে থাকা একটি ছোট ট্রলার থেকে এস. এইচ. চামিন্দা এবং তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিংকে উদ্ধার করেন। তারা শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়ার পর তারা জানান, টানা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে ছিলেন এবং এর মধ্যে প্রায় ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়েই জীবন রক্ষা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৬ দিন আগে চার জেলে মাছ ধরতে সমুদ্রে যান। বৈরী আবহাওয়ায় তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে অন্য দুটি নৌযানের সহায়তায় দুই জেলে উদ্ধার হন। তবে নিজেদের ট্রলার ফেলে যেতে রাজি না হওয়ায় বাবা-ছেলে সেখানেই থেকে যান।
তাদের দাবি, এ সময় মিয়ানমারের কিছু ব্যক্তি ট্রলারে উঠে দুরবিন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। পরে সাগরের স্রোতে ভেসে ট্রলারটি বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে মহেশখালীর উপকূলে এসে পৌঁছায়।
উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমান জানান, গভীর সমুদ্রে ভাসমান ট্রলারটি দেখতে পেয়ে কাছে গেলে দুই জেলে হাতজোড় করে সাহায্য চান। মানবিক কারণে তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে মহেশখালীতে নিয়ে আসা হয়।
পুলিশ জানায়, ভাষাগত সমস্যার কারণে ইশারার মাধ্যমে কথা বলে দুই শ্রীলঙ্কান জেলে যত দ্রুত সম্ভব নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা তাদের ট্রলারটিও সঙ্গে নিতে চান। তবে স্থানীয় প্রশাসনের মতে, মহেশখালী থেকে ছোট ওই ট্রলারে করে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া নিরাপদ নয়। তাই সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে প্রথমে তাদের ঢাকায় নেওয়া হবে। পরে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসের সহযোগিতায় নিরাপদে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।