ভারত সীমান্তে ১১টি ভয়াবহ ‘জে-২০ মাইটি ড্রাগন’ যুদ্ধবিমান মোতায়েন চীনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন জোরদার করেছে চীন। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের জুনের শেষ সপ্তাহ ও জুলাইয়ের শুরুতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চীনা বিমানঘাঁটিতে অন্তত ১১টি জে-২০ যুদ্ধবিমান অবস্থান নিয়েছে। এতে সীমান্তজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্যাটেলাইট ইমেজিং প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের প্রকাশিত উপগ্রহ চিত্র অনুযায়ী, ৯ জুলাই শিনজিয়াংয়ের হোতান বিমানঘাঁটির রানওয়েতে একসঙ্গে সাতটি জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা যায়। এই ঘাঁটিটি লাদাখের লেহ শহর থেকে প্রায় ৩৮৯ কিলোমিটার এবং ভারতের কৌশলগত দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় ২৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

একই সময়ে তিব্বতের লহাসা প্রিফেকচারের দামশুং বিমানঘাঁটিতেও আরও চারটি জে-২০ স্টিলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের চিত্র ধরা পড়েছে। বিমানঘাঁটিটি অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং অঞ্চল থেকে প্রায় ৩৪৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উপগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, কোনো একটি চীনা বিমানঘাঁটিতে একসঙ্গে এত বেশি সংখ্যক জে-২০ যুদ্ধবিমান দেখা যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ভারতের মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিউস্পেসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক ফাইটার পাইলট সমীর জোশীর মতে, হোতান ও দামশুংয়ে জে-২০-এর উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ভারতের মুখোমুখি উচ্চতর বিমানঘাঁটি থেকে পঞ্চম প্রজন্মের স্টিলথ যুদ্ধবিমান পরিচালনা এখন চীনা বিমানবাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কেবল শক্তি প্রদর্শন নয়; বরং উত্তর সীমান্তে ভারতকে নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এ পরিস্থিতিতে কাউন্টার-স্টিলথ সেন্সর, সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার হামলা সক্ষমতা দ্রুত আধুনিকায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জে-২০-এর সবচেয়ে বড় শক্তি এর উন্নত স্টিলথ প্রযুক্তি। এ কারণে প্রচলিত রাডারে বিমানটিকে শনাক্ত করা কঠিন, যা আকাশযুদ্ধে এটিকে বড় সুবিধা দেয়। বিপরীতে ভারতের হাতে এখনো নিজস্ব কোনো স্টিলথ যুদ্ধবিমান নেই। দেশটির স্বদেশি অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট প্রকল্পের কাজ চললেও এটি বিমানবাহিনীতে যুক্ত হতে অন্তত আরও এক দশক সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের জে-২০ বহর দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০১৯ সালে যেখানে এই যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০টি, সেখানে ২০২২ সালের শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২০০টিতে। ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে চীনের বিভিন্ন ইউনিটে জে-২০-এর সংখ্যা আনুমানিক ৩০০ থেকে ৫০০-তে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের বহরে প্রায় এক হাজার জে-২০ যুদ্ধবিমান থাকতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় এয়ার মার্শাল নর্মদেশ্বর তিওয়ারি বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান উৎপাদনের সক্ষমতা চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতারই প্রতিফলন।

বর্তমানে ভারতের হাতে ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান রয়েছে, যা দুটি স্কোয়াড্রনে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া দেশটি নৌবাহিনীর জন্য আরও ২৬টি রাফায়েল কেনার চুক্তি করেছে এবং বিমানবাহিনীর জন্য অতিরিক্ত ১১৪টি রাফায়েল সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বহরে ২৬০টির বেশি সুখোই-৩০ এমকেআই, পাশাপাশি মিরাজ-২০০০ ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানও রয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970