পাকিস্তান-বাংলাদেশ থেকে একযোগে ভারতে আক্রমণ হতে পারে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৩ এএম
ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির বিমান বাহিনীর (আইএএফ) সাবেক প্রধান অরূপ রাহা। তার মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—দুই দিক থেকেই প্রায় একযোগে সন্ত্রাসী হামলা বা সমন্বিত চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা বাড়ছে, যার জন্য ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
ইউএনআইকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো আগের মতোই সক্রিয় এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মতাদর্শগত অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা ভারতের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রাহার ভাষ্য, ভারত বর্তমানে “অস্থিরতার মরুভূমিতে একটি মরুদ্যান”—যেখানে শক্তিশালী অর্থনীতি ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ কারণেই প্রতিবেশী অঞ্চলের অস্থিরতার ছাপ ভারতের ওপর পড়তে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশটিতে মৌলবাদের দিকে ঝোঁক দেখা গেলেও এটি সাময়িক বলেই বিশ্বাস করেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের মানুষ স্বভাবগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ও শান্তিপ্রিয়, তাই এই প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
তবে সাবেক এ বিমান বাহিনী প্রধান দাবি করেন, পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এ সুযোগে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার চেষ্টা করছে। যদিও ১৯৭১ সালের গণহত্যার স্মৃতি বাংলাদেশের সমাজে এখনও শক্ত অবস্থান ধরে রাখায় পাকিস্তানের সে প্রচেষ্টা সফল হওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।
তিনি আরও বলেন, ভারত–বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকবে, তবে নিরাপত্তার দিক থেকে দুই দেশকেই সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে আইএসআই–সমর্থিত সম্ভাব্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
অরূপ রাহা ভারতের বিমান শক্তি বৃদ্ধি এবং দেশীয় যুদ্ধবিমান উৎপাদনে আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন। দুবাই এয়ারশোতে তেজস এলসিএর দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় প্রকল্প পুনর্বিবেচনার যে আলোচনা চলছে, সেটি বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে দ্রুত নতুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত না হলে আইএএফের স্কোয়াড্রন শক্তি ২৫-এ নেমে আসতে পারে।