ইমরান খানের খোঁজ দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভের ডাক, ১৪৪ ধারা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১১ এএম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ঘিরে মৃত্যুর গুজব ও সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কায় রাওয়ালপিন্ডিতে সব ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পিটিআইয়ের ঘোষিত বিক্ষোভের আগে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরো তিন দিন শহরে ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকছে।
রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার ড. হাসান ওয়াকার চীমার স্বাক্ষরিত আদেশ অনুযায়ী, এই সময়ে পাঁচজনের বেশি মানুষের যেকোনো সমাবেশ, বিক্ষোভ, মিছিল, ধর্না বা শোভাযাত্রা পুরোপুরি নিষিদ্ধ। পাশাপাশি অস্ত্র বহন, লাঠি বা যেকোনো ক্ষতিকর বস্তু রাখা, বিস্ফোরক বা পেট্রোল বোমা প্রদর্শন, উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, পুলিশ ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং মোটরসাইকেলে পিলিয়ন রাইডিংও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাউডস্পিকার ব্যবহারের ওপরও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন গোষ্ঠী বড় সমাবেশের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত।
২০২৩ সালের আগস্টে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তিনি দাবি করে আসছেন—তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পরিবারের অভিযোগ, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসন তাদের সাক্ষাতের সুযোগ দিচ্ছে না। তার ছেলে কাসিম খান বলেন, “বাবা জীবিত, নিরাপদ বা আহত—কিছুই জানতে না পারা মানসিক নির্যাতনের মতো।” তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ বন্ধ।
পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়া শাখা ২ ডিসেম্বর ইসলামাবাদ হাই কোর্টের সামনে বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ প্রশাসনও রাজধানীতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো ধরনের বিক্ষোভ বা জনসমাবেশের অনুমতি নেই এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থায় থাকবে। ধারা অমান্য করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, খাইবার পাখতুনখাওয়া মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফরিদি আটবার চেষ্টা করেও ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেননি। ২৬ নভেম্বর অনুমতি না পেয়ে তিনি আদিয়ালা রোডে ১৬ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট করেন। পিটিআইয়ের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইমরানের পরিবারের নিয়মিত সাক্ষাৎ বন্ধ রেখে সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।