দুই হত্যা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পলাতক ৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মালবাহী ট্রাকচালক মো. হোসেন ও সিএনজি অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যা মামলায় ৬৪ জন আসামির বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম এ আদেশ দেন।
হোসেন হত্যা মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ট্রাকচালক মো. হোসেন। এ ঘটনায় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুজন আহত হন।
হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রীনা বেগম ওই বছরের ৩১ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ২৩ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এ মামলায় বর্তমানে ২০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খান, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ আরও অনেকে। তবে সাদেক খান, পলকসহ চারজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং ১০ জন জামিনে আছেন।
অন্যদিকে, সিএনজি অটোরিকশাচালক সবুজ হত্যা মামলার সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুরের ময়ূর ভিলার সামনে গুলিবিদ্ধ হন ২২ বছর বয়সী সবুজ। ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সবুজের ভাই মনির হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২৭ নভেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রভুক্ত শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ২১ জন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
এ মামলায় সাদেক খানসহ তিন আসামি কারাগারে রয়েছেন এবং ছয়জন জামিনে আছেন।