খুলনায় রান্নার সময় সবুজ হয়ে যাচ্ছিল গরুর মাংস, কড়াই নিয়ে হাজির থানায়
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংসের রং অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) পৌর এলাকার একটি বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য কেনা মাংস রান্না করতে গিয়ে এমন ঘটনা দেখার দাবি করেন। পরে তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং থানায় যান।
জানা গেছে, পাইকগাছার মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী যৌথভাবে ভোজের আয়োজন করেছিলেন। সকালে কর্মচারী লিটন হোসেনসহ তিনজন স্থানীয় একটি মাংসের দোকান থেকে চার কেজি গরুর মাংস কেনেন। ওই সময় সেদিন জবাই করা মাংস শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রেতা আগের দিনের ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস তাদের দেন।
বেকারির কর্মচারীদের দাবি, স্বাভাবিক নিয়মে তেল-মসলা দিয়ে রান্না শুরু করার কিছুক্ষণ পরই মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হয়ে যেতে থাকে। যতই রান্না এগোতে থাকে, রং ততই গাঢ় হতে থাকে। এতে তারা বিস্মিত হয়ে চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতার কাছে যান। পরে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে সেখান থেকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তারা কড়াইসহ থানায় যান। পরে ওই মাংস ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি ভ্যানে সবুজ রঙ ধারণ করা মাংসভর্তি কড়াই নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বেকারির কর্মচারীরা। তাদের একজন জানান, রান্নায় কোনো ধরনের রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়নি। মাংস কড়াইয়ে দেওয়ার পরই অস্বাভাবিকভাবে সবুজ রং দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি জানালে বিক্রেতা মাংসে কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, একই সংরক্ষিত মাংস তিনি আরও ১০ থেকে ১২ জন ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন এবং তাদের কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তার দাবি, বেকারিতে ব্যবহৃত কোনো রাসায়নিক বা অন্য কোনো কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। যদিও বেকারির কর্মচারীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে মাংসের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম বলেন, খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে যাওয়া মাংস দেখে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এর আগে তিনি এমন ঘটনা কখনও দেখেননি।
পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসসহ থানায় এসেছিলেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তারা তা করেননি। কিছুক্ষণ পর তারা কড়াই নিয়ে চলে যান।