হাদি হত্যার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ১৪ বার পেছাল
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পিছিয়েছে। চৌদ্দতম বারের মতো এ প্রতিবেদন দাখিল পিছিয়ে আগামী ৭ জুন নতুন দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
রোববার (১৭ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এ তারিখ ধার্য করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। তবে সেই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ।
মামলাটি গত ১২ জানুয়ারি শুনানির জন্য উঠলে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চান। পরে ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়। ওইদিন ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। এরপর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসা শরীফ ওসমান হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী গণসংযোগে বিজয়নগর এলাকায় গেলে চলন্ত মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। পরে তার মৃত্যু হলে মামলায় হত্যা ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।