গুম করে লাশের পেট কেটে নদীতে ফেলেছেন জিয়াউল: চিফ প্রসিকিউটর
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৯ পিএম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
তিনি জানান, জিয়াউলের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থার হাতে অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। জিয়াউল শত শত মানুষকে গুম ও হত্যা করেছেন এবং তাদের লাশের পেট কেটে নদীনালা, খাল ও বিলগুলোতে ফেলে দিয়েছেন।
রোববার (২৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, “এ ধরনের দুর্ধর্ষ আসামির বিরুদ্ধে সব অভিযোগের তদন্ত সংস্থাকে নিজমতো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে দিতে হবে।”
জিজ্ঞাসার সময় আসামির আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার বোন নাজনীন নাহার। তবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আদালতে আবেদন করতে হলে আইন ও বিধান উল্লেখ করতে হয়। জিয়াউলের পক্ষের আইনজীবী ঢালাও আবেদন করেছেন। ফোন কল রেকর্ড বা মেসেজ চাওয়া এই মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এছাড়া এখন পর্যন্ত অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি। এসব পেতে হলে ভিন্ন ফোরামে যেতে হবে।”
তাজুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামির পাশে আইনজীবী বসে থাকতে পারেন না। তবে স্বচ্ছতার স্বার্থে আইনজীবী পার্শ্ববর্তী কক্ষে থাকেন এবং প্রয়োজনে একজন চিকিৎসকও রাখা হয়। তিনি বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের মূল উদ্দেশ্য তথ্য উদ্ঘাটন করা। আইনজীবী পাশে থাকলে তা বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।”
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামিকে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে মুখোমুখি আনা হতে পারে যাতে সত্য উদ্ঘাটিত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, জিয়াউল তদন্ত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন, অবাঞ্চিত আবেদন করে কোর্টের সময় নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। আদালতে সমস্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেখাচ্ছে একক ব্যক্তি হিসেবে জিয়াউলের অপরাধের পরিধি সবচেয়ে বড়।