খলিফাদের নামে তিন ভাইয়ের নাম রেখেছিল ওসমান হাদির পরিবার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৬ পিএম
ইসলামের প্রথম তিন খলিফা হজরত আবু বক্কর (রা.), হজরত ওমর (রা.) ও হজরত ওসমান (রা.)—এই তিন মহান ব্যক্তিত্বের নামে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিসহ তার তিন ভাইয়ের নাম রেখেছিল পরিবার। ধর্মীয় আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে ওঠা এই পরিবারে ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন ওসমান হাদি।
ওসমান হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বরিশালের গুঠিয়ার ঐতিহ্যবাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মেঝো ভাই ওমর ফারুক ঢাকায় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তার তিন বোনের নাম মাহবুবা বেগম, মারুফা ইসলাম ও মাসুমা আক্তার।
ওসমান হাদির বাবা প্রয়াত মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন একজন মাদ্রাসার শিক্ষক ও আদর্শ আলেম। কোরআন-হাদিসের গভীর জ্ঞান, সহজ জীবনযাপন ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাই ছিল তার জীবনের মূল ব্রত। ছয় সন্তানকেও তিনি সেই আদর্শেই লালন-পালন করেন।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকায় একটি সাধারণ টিনের ঘরে জন্ম ওসমান হাদির। সেখান থেকেই উঠে এসে তিনি রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতি ও নতুন রাষ্ট্রচিন্তার পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন বলে জানান এলাকাবাসী।
তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঝালকাঠির এন এস কামিল মাদ্রাসায়। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাহসী ভূমিকার মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পান। পরবর্তী সময়ে টকশো ও ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার বক্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
জীবিকার প্রয়োজনে একসময় প্রাইভেট পড়ানো ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন ওসমান হাদি। সর্বশেষ তিনি ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক জীবনে তিনি বিবাহিত এবং তার আট মাস বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে পল্টন এলাকায় হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে তিনি মারা যান। ২০ ডিসেম্বর লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে জাতীয় কবির সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।