আইসিজেতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ দাবি: মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপনের মিয়ানমারের প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। এ ধরনের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে ঢাকা।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা এবং রাখাইনে পরিচালিত ‘রোহিঙ্গা নির্মূল’ অভিযানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে বৈধতা দিতেই মিয়ানমার এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। একইসঙ্গে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতা ও গণহত্যার বিষয়টি আড়াল করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী, যারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকান অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। ১৭৮৫ সালে বার্মা সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার অনেক আগেই সেখানে তাদের অস্তিত্ব ছিল। ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটির উৎপত্তি ঐতিহাসিকভাবে আরাকানের প্রাচীন রাজধানী ম্রো-হাউং বা রোহাং অঞ্চল থেকে এসেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে রোহিঙ্গাদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত পরিচয় আরাকান রাজ্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত, যা বর্তমানে রাখাইন রাজ্য নামে পরিচিত। তবে জাতিগত ও ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ১৯৮২ সালে নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন করে তাদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনেও রোহিঙ্গাদের ভোটাধিকার বাতিল করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে, রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় ও জাতিগত অধিকার অস্বীকার করতেই মিয়ানমার দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে প্রচার করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক কিছু মিল থাকলেও রোহিঙ্গারা চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনগোষ্ঠী থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জাতিগত গোষ্ঠী।
একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইন রাজ্যে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানায় বাংলাদেশ।
এছাড়া ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল—মিয়ানমারের এমন দাবিকেও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে মিয়ানমার ব্যর্থ হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।