জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক, বঙ্গভবনের কর্মকর্তা আটক
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলম। তিনি রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে কর্মরত।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টের ডিভাইস নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট প্রকাশের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে একই ঘটনার সূত্র ধরে রাজধানীর মতিঝিলের এজিবি কলোনিতে অভিযান চালায় ডিবি। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর এ অভিযান শুরু হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনায় একটি অভিযান চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন ও অগ্রগতির তথ্য জানাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানায়। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে একটি অননুমোদিত ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। পরে কেন্দ্রীয় আইটি টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বিকেল ৫টা ৯ মিনিটে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। একই দিন বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে হ্যাকিংয়ের বিষয়ে জরুরি ঘোষণা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সেদিন রাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয় এবং পরদিন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হয়। জামায়াতের দাবি, তদন্তে দেখা গেছে তাদের কেন্দ্রীয় অফিসিয়াল ই-মেইলসহ একাধিক ঠিকানায় একটি ফিশিং মেইল পাঠানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ফিশিং মেইলটি বঙ্গভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ই-মেইল ঠিকানা থেকে পাঠানো হয়েছিল।
পরবর্তীতে কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে জামায়াতের প্রতিনিধি দল সরাসরি বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানায়। সেখানে সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে জানিয়ে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।