একনেকে উঠছে ১৪ হাজার ৭২৭ কোটি টাকার ৯ প্রকল্প

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম এবং বর্তমান সরকারের ষষ্ঠ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭২৭ কোটি ৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ১১ হাজার ১৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সভায় তিনটি নতুন এবং ছয়টি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব রয়েছে। নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প, বৃহত্তর দিনাজপুর সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার মেঘনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পটি ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা জনপদ, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকার বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পও নতুনভাবে অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নযোগ্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিন জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও স্থানীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে।

এছাড়া একই সংস্থার ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকার পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের আট বিভাগের ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় প্রায় ৯১ হাজার ৫৬০ কিলোমিটার পল্লী সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি ৪৫ হাজার ৭৮০ জন দুঃস্থ নারীকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

একনেক সভায় কয়েকটি চলমান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও থাকছে। এর মধ্যে এলজিইডির ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ প্রকল্পের ব্যয় ৩৬৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতেও ব্যয় ১ হাজার ২৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধনী অনুমোদিত হলে প্রকল্পটির বাস্তবায়নকালও বৃদ্ধি পাবে।

সবচেয়ে বড় ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প’-এর দ্বিতীয় সংশোধনীতে। এতে প্রকল্পটির ব্যয় ৯ হাজার ৪৯২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় ২৭ হাজার ৪৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৩ হাজার ৮০৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ১৩ হাজার ২৪২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের আওতায় বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার উদ্যোগে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকার একটি নতুন প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পটির আওতায় একটি মূল্যায়ন কূপ এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় ১১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার সম্প্রসারণ এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে নতুন ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন প্রকল্পে ৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জ্বালানি অনুসন্ধান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হবে। একনেকের অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970