১০০ টাকার বেশি ময়লার বিল নিলে লাইসেন্স বাতিল
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন বাসাবাড়ি থেকে নির্ধারিত ১০০ টাকার বেশি বর্জ্য সংগ্রহ বিল আদায় এবং নিয়মিত ময়লা অপসারণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বর্জ্য সংগ্রহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সোমবার রাজধানীর নগর ভবন অডিটরিয়ামে বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সভায় আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ এবং নগরীর নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যকর রাখার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে প্রশাসক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, অতিরিক্ত বিল আদায় এবং নাগরিক ভোগান্তির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন সংগ্রহ করছে না।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নিতে হবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে আদায় করতে হবে।
প্রশাসক স্পষ্ট করে জানান, নির্ধারিত টাকার বেশি বিল আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
সভায় “দিনের বর্জ্য দিনেই অপসারণ” নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোনো এলাকায় ময়লা জমে থাকতে দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রশাসক জানান, কোরবানির ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড পুরোপুরি বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থেকে কাজ করতে হবে।
মো. আবদুস সালাম আরও বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা যায়।
নাগরিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পরিচ্ছন্ন পোশাকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এছাড়া রাস্তা, ড্রেন বা খালে ময়লা ফেলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বাসা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না রেখে রাস্তায় বা খালে ফেললে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু সেবা নয়, এটি একটি সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।