সড়ক বাতির বিদ্যুৎ সাশ্রয় শিখতে ফ্রান্সে যেতে চান রাজশাহী সিটির প্রশাসক, প্রধানমন্ত্রীর ‘না’
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সড়ক বাতি প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের ফ্রান্স সফরের প্রস্তাব অনুমোদন করেননি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন এমন কর্মকর্তার বিদেশ সফরের যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজন হলে এ ধরনের সফরে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী অংশ নিতে পারেন।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্সভিত্তিক আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার পরিদর্শন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইটের ফ্রান্স সফরের একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সোমবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রস্তাবের নোটে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, স্ট্রিট লাইটিং প্রযুক্তি বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান সিটি করপোরেশনের কাজে লাগতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সফর যুক্তিযুক্ত। তবে প্রশাসক প্রকৌশলী নন, ফলে তার সফরে অংশগ্রহণের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা নেই। প্রয়োজন হলে শুধু নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে মশকনিধন সংক্রান্ত উদ্ভাবনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ পাঁচ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়নি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, মশকনিধনের কার্যকর পদ্ধতি জানতে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থান নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ঈদুল আজহার আগে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে নামকরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলোর মতে, সাম্প্রতিক এসব সিদ্ধান্তে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও পেশাগত সংশ্লিষ্টতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বদলে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নীতির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।