পাঁচ বছরে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ বিলিয়ন ডলার, বেশি ভারতের সঙ্গে: বাণিজ্যমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে ভারতের সঙ্গে।
সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আফগানিস্তান, ভুটান ও পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে এই ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত ভুলের কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার সংকটও এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
বাণিজ্যমন্ত্রীর ভাষ্য, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানির তুলনায় ধীরগতির প্রবৃদ্ধি বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার অন্যতম কারণ।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ২৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার।
একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয়ের চিত্রও তুলে ধরেন তিনি। পাঁচ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ছিল যথাক্রমে ৪৫ দশমিক ৩৬, ৬০ দশমিক ৯৭, ৫৩ দশমিক ৯২, ৫১ দশমিক ১১ এবং ৫৫ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় ছিল ৬১ দশমিক ৬০, ৮৯ দশমিক ১০, ৭৮ দশমিক ২৯, ৭২ দশমিক ৬১ এবং ৭৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করেছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। এ নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রণোদনা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও মাছ এবং প্লাস্টিক খাতে রপ্তানিকারকদের জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ১৪টি সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া মালয়েশিয়া, তুরস্ক ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা ২০২৬ সালের আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।