আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে, টিআইবির রিপোর্ট পেপার কাটিং: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম ১০০ দিনের অপরাধচিত্র নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সোমবার (৮ জুন) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিআইবির প্রতিবেদন মূলত সংবাদপত্রের কাটিংয়ের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। তাদের নিজস্ব কোনো তদন্ত বা অনুসন্ধান নেই। এ কারণে ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।
তিনি আরও বলেন, টিআইবি কোনো সরকারি সংস্থা নয়। দেশের প্রকৃত অপরাধ পরিস্থিতি জানতে হলে পুলিশ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রসঙ্গত, রোববার (৭ জুন) টিআইবি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বর্তমান সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৯ জন নারী ও শিশু।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করে শুধু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিবেদন তৈরি করা সমীচীন নয়। তবে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রয়েছে এবং প্রকাশিত তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, তার কাছে বর্তমানে টিআইবির প্রতিবেদনটি নেই। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিয়মিতভাবে মাসভিত্তিক অপরাধের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ করে থাকে। সেখানে ডাকাতি, হত্যা, খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, সম্প্রতি তার কাছে আসা একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমান সরকারের সময়ে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধের হার কমেছে।
অনুষ্ঠানে রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত ডিএনএ পরীক্ষা ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিল, দৌলতদিয়া ঘাটে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে অন্তত ৫০ জন বাসযাত্রীর প্রাণ রক্ষা এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কিশোরী হত্যা মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিশেষ অবদান রাখা পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
এ সময় মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে আর্থিক পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়। প্রত্যেকে ২০ হাজার টাকা এবং একটি করে সনদপত্র গ্রহণ করেন।