জুলাই যোদ্ধাদের গেজেট হয়েছে, ১৭ বছরে নিহতদের তালিকা কোথায়? প্রশ্ন ত্রাণমন্ত্রীর
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের গেজেট প্রকাশ ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও, গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের তালিকা কোথায়—এমন প্রশ্ন তুলেছেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে তাদেরও দ্রুত গেজেটভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য, মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, আর জুলাই আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারবিরোধী একটি স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক আন্দোলন। দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য ভিন্ন হলেও উভয় ক্ষেত্রের আত্মত্যাগকে যথাযথ সম্মান জানানো উচিত।
নিজেকে একজন শহীদ পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে তার বাবা শহীদ হয়েছেন। স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং দুই লাখ মা-বোন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তাদের অনেকের নাম এখনো সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, তার দলও জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল এবং আন্দোলনের প্রতি তাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তবে গত ১৭ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা নিহত, আহত বা পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, তাদের অবদানও সমানভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বক্তব্যে এক শোকাহত মায়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ওই নারীর সন্তান নিহত হন। অথচ জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের তালিকা করা হলেও দীর্ঘ সময়ের আন্দোলনে নিহত ও আহতদের কোনো তালিকা তৈরি হয়নি। এতে বৈষম্যের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ও আহতদেরও দ্রুত গেজেটভুক্ত করা উচিত। এতে বৈষম্য দূর হবে এবং ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয় না। মাদক, জুয়া, ধর্ষণসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ সমাজকে ভেতর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, কঠোর আইন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ধর্ষণের মতো অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে।
ত্রাণমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী ৪ জুলাই লালমনিরহাটে ‘আলোকিত লালমনি’ নামে পাঁচটি সামাজিক অপরাধবিরোধী একটি সামাজিক আন্দোলনের উদ্বোধন করা হবে। ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।