যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি তারা সংসদে স্বাধীনতার কথা বলে: রাশেদ খান
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
বিএনপির নেতা রাশেদ খান বলেছেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পতাকা ও মানচিত্রের বিরোধিতা করেছিল, তারাই এখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার কথা বলছে। তার ভাষায়, এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার বিষয়।
রোববার (২৮ জুন) গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান বলেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যার সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত দল জামায়াতে ইসলামী এখনও একই নামে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলটি প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হওয়াকে তিনি দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন। তবে তার দাবি, স্বাধীনতার বিরোধিতার অতীত ইতিহাসের কারণে দলটির মধ্যে এক ধরনের হীনম্মন্যতা কাজ করে, ফলে তারা কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে পারছে না।
জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলাম মাসুদের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংসদে যতই রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা হোক না কেন, বাইরে সবাই একসঙ্গে বসে চা পান ও আড্ডা দেন—এ ধরনের বক্তব্য মূলত বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া হয়েছে। তার মতে, সংসদের ভেতরের বিরোধিতা অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
চলমান বাজেট অধিবেশন নিয়েও সমালোচনা করেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে বিরোধী দল অন্য প্রসঙ্গে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তার দাবি, যারা নিজেদের ছায়া সরকার গঠনের কথা বলছে, তাদের পক্ষ থেকে বাজেটের বিকল্প বিশ্লেষণ বা সমালোচনা উপস্থাপনের জন্য কোনো ছায়া অর্থমন্ত্রীর ভূমিকাও দেখা যাচ্ছে না। এ কারণে তিনি বিরোধী দলকে বাজেট আলোচনায় ‘লাইনচ্যুত’ বলে মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে বিএনপির নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংকটের কথাও তুলে ধরেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে দলের অনেক নেতা-কর্মী নিজ বাড়িতে নিরাপদে থাকতে পারেননি, অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই এ সময় তারা কোথায় ছিলেন—এমন প্রশ্ন বা কটাক্ষ করা অনুচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে অনেক উদ্যোক্তা ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। তার মতে, এমন পরিস্থিতির জন্য ঋণগ্রহীতাদের দায়ী না করে সে সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।