সব বাধা পেরিয়ে চলতি বছরই দেশে ফিরব: শেখ হাসিনা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সব ধরনের রাজনৈতিক বাধা, ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতা অতিক্রম করে চলতি বছরের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরবেন। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফেরা তার ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়। বরং বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে এটি গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি তাকে ভীত করতে পারেনি। তার দাবি, তিনি ক্ষমতার জন্য নয়, দেশের মানুষের কল্যাণ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই রাজনীতি করে আসছেন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারানোর পাশাপাশি একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন তিনি। এত প্রতিকূলতার পরও মানুষের প্রতি আস্থার কারণেই দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনগণের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি রাজনৈতিক দল। তার দাবি, অতীতের বিভিন্ন সংকটেও জনগণের সমর্থনে দলটি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা বা অন্য কোনো দলের দুর্বলতার ওপর নির্ভর করছে না। জনগণের সমর্থনই দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তবে দলীয় কার্যক্রমে বাধা, মামলা কিংবা কার্যালয় বন্ধ করেও মানুষের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে গোপন যোগাযোগের গুঞ্জনও নাকচ করেন শেখ হাসিনা। তার ভাষ্য, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার কোনো গোপন সমঝোতার বিষয় নয়; এগুলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।
ভারতে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, দেশ থেকে দূরে থাকলেও নিয়মিত বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, দলের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর রাখছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিকে সঙ্গে নিয়েই তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অব্যাহত রাখবেন এবং জনগণের সমর্থনে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্বাস করেন।