আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণ বসে থাকবে না: জামায়াত আমির
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়, তাহলে জনগণ বসে থাকবে না—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণ নিজ দায়িত্বে সুষ্ঠু ভোট আদায় করে নেবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। বৈঠকটি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অতীতের মতো কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী যেন নির্দিষ্ট কারও পক্ষ না নেন, সেটাও স্পষ্টভাবে দেখতে চায় না জামায়াত। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণভোটে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের অবস্থান স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। জুলাই আকাঙ্ক্ষার আলোকে প্রস্তাবিত সংস্কারের বৈধতা দিতেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জামায়াত আমির আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে দেশ জিতবে। এর মাধ্যমে অতীতের নির্যাতন-নিপীড়নের অবসান ঘটবে এবং শহীদদের আত্মত্যাগের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে জাতি তার কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। জামায়াত ও জোটের অঙ্গীকার হলো দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
যুবসমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তরুণরা ভাতা বা দয়া নয়, কাজ ও সম্মান চায়। তাদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব তুলে দিতে চায় জামায়াত।
নির্বাচনে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কোনো নিশ্চিত তথ্য ছাড়া বিভ্রান্তিকর কথায় কান না দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। ভোটের ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বানও জানান জামায়াত আমির।
নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে রায় দেয়, জামায়াত তা শ্রদ্ধার সঙ্গে মেনে নেবে—হোক তা সরকারে থাকা বা বিরোধী দলে বসা।
বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টিসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।