সরকারের অনেক আমলা বেসরকারি কোম্পানির এজেন্ট: হাসনাত আবদুল্লাহ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
সরকারের অনেক আমলা বর্তমানে বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
রবিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জাতীয় নাগরিক পার্টির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তা: বর্তমান সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সরকারি পদে থাকা অনেক আমলা তাদের প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানির স্বার্থ রক্ষা করছেন এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
জ্বালানি খাতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় জ্বালানি বিষয়ক একটি কমিটিতে কাজ করার সময় তিনি দেখেছেন কীভাবে কিছু আমলা নির্দিষ্ট জ্বালানি আমদানির জন্য সরকারকে চাপ দেন। তারা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা ভারী জ্বালানি তেল আমদানির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এতে জ্বালানি সংকট সমাধান হবে। কিন্তু বাস্তবে এসব পরামর্শের পেছনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির স্বার্থ কাজ করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অবসরের পর এসব আমলা একই বেসরকারি কোম্পানিতে উচ্চপদে চাকরি গ্রহণ করেন। একইভাবে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রেও স্পট মার্কেট থেকে তেল কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় প্রভাবিত বলে তিনি দাবি করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজন থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বরং সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতিতে চলছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র ও করপোরেট স্বার্থের প্রভাবের কারণে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না।
জ্বালানি সংকট ও জ্বালানি স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। গত এক দশকে এ খাতে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ফলে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে এবং লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট শিল্প ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানান।