শেখ হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে ৬ দুর্নীতি মামলার রায় নভেম্বরেই হতে পারে

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৫, ০১:২৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পলাতক অবস্থায় বিচার চলছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা প্লট দুর্নীতি মামলার। সাক্ষ্যগ্রহণ প্রায় শেষ পর্যায়ে, রায় হতে পারে আগামী মাসে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা গঠিত হয়। এর মধ্যে ছয়টি প্লট দুর্নীতি মামলা বর্তমানে ঢাকার দুটি বিশেষ জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, এবং রেহানার সন্তানসহ পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা চলছে। এসব মামলার সবকটিই এখন সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ জানান, “অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ বা নভেম্বরের প্রথম দিকে মামলাগুলোর রায় ঘোষণা হতে পারে। সাক্ষ্যপ্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

আদালত সূত্র বলছে, শেখ হাসিনা, তার ছেলে জয় ও মেয়ে পুতুলের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা বিচারাধীন বিশেষ জজ আদালত-৫-এ। এই তিন মামলার সাক্ষী ২৯ জনের মধ্যে ২৫ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, শেখ রেহানা ও তার সন্তানদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলছে বিশেষ জজ আদালত-৪-এ, যেখানে অধিকাংশ সাক্ষীর জবানবন্দি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হয়েও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ছয়টি ১০ কাঠা প্লট নিজেদের নামে নিয়েছিলেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, তারা রাজউকের কাছে মিথ্যা হলফনামা দিয়ে জমি না থাকার দাবি করেন।

আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে চার বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত সাজা হতে পারে।

তবে আসামিদের পক্ষে থাকা আওয়ামীপন্থি আইনজীবী মোরশেদ আলম শাহীন আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী লড়াই করতে পারছেন না। একতরফাভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ভবিষ্যতে এ রায় নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।”

তিনি আরও বলেন, “আইন অনুযায়ী, পলাতক আসামির পক্ষেও স্থানীয় আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া যায়। কিন্তু আদালত সে সুযোগ দেয়নি। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হচ্ছে।”

আইনজীবীরা বলছেন, যদি শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যরা এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে তাদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২)(ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দুই বছরের অধিক কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত নির্বাচনে অযোগ্য থাকেন।

তবে তারা আপিল করলে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970