কারাগারে ফিলিস্তিনি নেতা বারঘুতির ওপর লেলিয়ে দেয়া হচ্ছে হিংস্র কুকুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৪০ এএম
ফিলিস্তিনের জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘুতিকে ইসরায়েলের কারাগারে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে বন্দি রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার ওপর ধারাবাহিক সহিংস হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা তার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিষয়টি জানিয়েছে আল জাজিরা।
তার আইনজীবীর বরাতে জানা গেছে, মার্চ ও এপ্রিল মাসে অন্তত তিনবার তার ওপর হামলা হয়েছে। তিনি এসব ঘটনাকে ক্রমবর্ধমান মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৬৬ বছর বয়সী এই নেতা ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ আন্দোলনের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৮ এপ্রিল মধ্য ইসরায়েলের গানোত কারাগারে তাকে মারধর করা হয় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়। চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এর আগে ২৫ মার্চ মেগিদ্দো কারাগার থেকে গানোত কারাগারে স্থানান্তরের সময়ও তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তার আগের দিন কারারক্ষীরা একটি কুকুর নিয়ে তার সেলে প্রবেশ করে তাকে মেঝেতে শুতে বাধ্য করে এবং কুকুর দিয়ে আক্রমণ করানো হয় বলে দাবি করা হয়।
তার গ্রেপ্তারের ২৪তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা সংস্থা জানায়, বিভিন্ন কারাগারে একাকী বন্দিত্বে থাকার সময়ও তার ওপর নতুন করে নৃশংস আচরণ করা হয়েছে।
আইনজীবী জানান, তার সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টার সাক্ষাতে দেখা গেছে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠোর ও অমানবিক। কাঁচের দেয়ালের ওপার থেকে চিৎকার করে কথা বলতে হয়েছে। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বারঘুতি মানসিকভাবে দৃঢ় এবং বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন রয়েছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষমতার কারণে বারঘুতিকে অনেকেই ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দেখেন। এজন্য তাকে অনেক সময় ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
২০০০ থেকে ২০০৫ সালের দ্বিতীয় ইন্তিফাদা চলাকালে সংঘটিত হামলার অভিযোগে তাকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
গত বছরের অক্টোবর মাসে তার ছেলে জানান, কারাগারে স্থানান্তরের সময় মারধরের ফলে তার চারটি পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায় আঘাত লাগে। একই সময়ে ইসরায়েলের এক কট্টর ডানপন্থি নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে তার কারাগারে সাক্ষাতের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যেখানে তাকে হুমকির সুরে কথা বলতে শোনা যায়।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বন্দি বিনিময় চুক্তি হলেও মারওয়ান বারঘুতিকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি।