বিএনপির সঙ্গে ২০ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করলো বাংলাদেশ লেবার পার্টি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০৩ পিএম
দীর্ঘ ২০ বছরের রাজনৈতিক পথচলা শেষে বিএনপির সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ লেবার পার্টি। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভা শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
লেবার পার্টির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০৬ সাল থেকে বিএনপির সমমনা জোট, ১৮ দল, পরে ২০ দলীয় জোট এবং যুগপৎ আন্দোলনে সবচেয়ে নিবেদিত ও ত্যাগী শরিক হিসেবে কাজ করেছে দলটি। ডা. ইরানের গ্রেফতার, হামলা, অসংখ্য মামলা, পাঁচ দফা কারাবরণসহ বিভিন্ন ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তারা দাবি করেছে—বিএনপির প্রতি সর্বোচ্চ বিশ্বস্ততা দেখিয়েছে লেবার পার্টি।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্ক ভেঙে গেছে। লেবার পার্টি নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপি শরিকদের প্রতি অবজ্ঞা, অসম্মান ও বেইমানিপূর্ণ আচরণ করেছে। আন্দোলন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাশাপাশি শরিকদের উপেক্ষা করে এককভাবে নির্বাচনী মাঠে নামার চেষ্টা—এসবই সম্পর্কচ্ছেদের প্রধান কারণ।
সভায় আরও অভিযোগ করা হয়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান “চিহ্নিত বিতর্কিত ব্যক্তি ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্তদের” মনোনয়ন দিয়েছেন, যা ‘টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বাণিজ্য’ বলেও উল্লেখ করেন লেবার পার্টির নেতারা। তাদের দাবি, এভাবে বিএনপি নিজের নৈতিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক চরিত্রকে দুর্বল করে তুলেছে।
নেতারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার কঠিন সময়ে মিত্রদের পাশে না রেখে বরং দূরে ঠেলে দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামিকে বাদ দেওয়ার পর এবার ২০ দলীয় জোটকেও কার্যত ভেঙে ফেলে দলটি নিজেকে ‘বন্ধুহীন ও নেতৃত্বহীন’ অবস্থায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
সভা শেষে সর্বসম্মতভাবে জানানো হয়—আজ থেকেই বাংলাদেশ লেবার পার্টি বিএনপির সঙ্গে সব রাজনৈতিক সম্পর্ক, জোটগত সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বন্ধন ছিন্ন করছে। দলটি এখন নিজস্ব আদর্শ, সাংগঠনিক শক্তি ও জনগণের অংশগ্রহণকে ভিত্তি করে রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
সভায় ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই, হিন্দুরত্ম রামকৃষ্ণ সাহা, মোসলেম উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।