আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি, পেকুয়ার ১২ জনসহ শতাধিক নিখোঁজ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় মোট নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫০ জনে।
নিখোঁজদের মধ্যে রাজাখালী ইউনিয়নের মিয়াপাড়া এলাকার আব্দু রহিমের ছেলে মো. বেলাল, আহমদ ছবির ছেলে মো. এহসান, আব্দুল মালেকের ছেলে রহিম, হাজিরপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহেল, নুরুল আমিনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, নতুন ঘোনা গোদারপাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার ছেলে রহুল কাদের, শহিদুল্লাহর ছেলে মানিকসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। এছাড়া টৈটং ইউনিয়নের পেন্ডারপাড়া ও হিরাবুনিয়াপাড়ার দুইজন নিখোঁজ আছেন।
অন্যদিকে, বাঁশখালী উপজেলার পুইছড়ি ইউনিয়নের আরও পাঁচজন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ও ৬ এপ্রিল পৃথকভাবে এসব যুবক সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে ৯ এপ্রিল আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজদের পরিবারের আহাজারিতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজ এহসানের মা মোহসেনা বেগম বলেন, ট্রলারে ওঠার পর ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। সে আশ্বস্ত করেছিল নিরাপদে পৌঁছে ফোন দেবে, কিন্তু সেই ফোন আর আসেনি।
সোহেলের বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিল। ভালো জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমালেও এখন তার কোনো খোঁজ নেই।
নিখোঁজ রহিমের স্ত্রী আজবাহার বেগম বলেন, পরিবারের সুখের জন্য স্বামী এ যাত্রায় গিয়েছিলেন, এখন ছোট সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিখোঁজদের কেউ লবণ শ্রমিক, কেউ জেলে, আবার কেউ বেকার ছিলেন। অনেকেই পরিবারের অজান্তে দালালদের প্রলোভনে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই যাত্রায় পা বাড়ান।
রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নেজাম উদ্দিন নেজু জানান, নিখোঁজদের পরিবারের পাশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রয়েছেন এবং তাদের সন্ধানে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, টেকনাফকেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। তারা পেকুয়া ও বাঁশখালীর দরিদ্র যুবকদের টার্গেট করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। জনপ্রতি ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের সাগরপথে পাঠানো হয়।
স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রের সঙ্গে কয়েকজন দালাল জড়িত রয়েছে, যারা সরাসরি লোক সংগ্রহ করে ট্রলারে তুলে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় ট্রলারডুবির বিষয়টি গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা গেছে। নিখোঁজদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক শরীফ বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।