জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের সুরতহাল সম্পন্ন, মাথা-কপালে-নাকে আঘাতের চিহ্ন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৬ এএম
ময়মনসিংহের শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনে তার মাথার পেছন অংশ, কপাল ও নাকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মা. মাসুদ জামালী সুরতহাল কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।
এসআই মা. মাসুদ জামালী জানান, নিহতের মাথার পেছনের অংশে থ্যাঁতলানো জখমের চিহ্ন রয়েছে। পাশাপাশি কপাল ও নাকেও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এ সময় মর্গে উপস্থিত নিহতের ছোট ভাই শ্রীবরদী মথুরাধি দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ শ্রীবরদী নিজ এলাকায় নেওয়া হবে। সেখানে বিকেল ৫টায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা এবং রাত সাড়ে ৮টায় নিজ গ্রাম গোপালখিলা স্কুলের খেলার মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
ভাইয়ের হত্যার বিচার দাবি করে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’
মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এজাহার প্রস্তুতের কাজ চলছে। খুব দ্রুত থানায় মামলা দায়ের করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদরাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মাঠে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে প্রথমে হট্টগোল শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহত অবস্থায় মাওলানা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।