পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় নিহত দম্পতির একসঙ্গে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য (৩০) ও জহুরা অন্তি (২৭) নামে এক দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বছর খানেক আগে বিবাহিত এই দম্পতির জানাজা একসঙ্গে পড়া শেষে তাদের কবরে দাফন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজবাড়ীর শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাজবাড়ী পৌরসভার নতুন বাজার কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহত কাজী সাঈফ আহমেদ সৌম্য রাজবাড়ী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড সজ্জনকান্দা গ্রামের কাজী মুকুলের ছেলে। তার স্ত্রী মেডিকেল শিক্ষার্থী জহুরা অন্তি একই এলাকার মৃত ডা. আব্দুল আলীমের কন্যা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ঈদের ছুটি শেষে তারা ঢাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছিলেন। বিকেলের দিকে বড়পুল থেকে তারা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন। বাসটি বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এসে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।
জানাজার নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
নিহত সৌম্যের বড় চাচা কাজী গোলাম আহমেদ বলেন, “আমার সেজো ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ও পুত্রবধূ বাস দুর্ঘটনায় মারা গেছে। এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, আজকে তাদের লাশ সামনে নিয়ে জানাজা পড়তে হচ্ছে। যদি কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ হয়ে থাকে, আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তাদের হয়ে ক্ষমা চাই। সবাই আমার ভাতিজা ও তার স্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন।”
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি বলেন, “দৌলতদিয়া ঘাটে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা সারা দেশের মানুষকে শোকে মলিন করেছে। সর্বশেষ ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও এ ঘটনায় ফোনে যোগাযোগ রেখেছেন। আমরা দোয়া করি এই দম্পতি বেহেশতের বাসিন্দা হোন এবং এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে।”
জানাজার নামাজের ইমামতি করেন জেলা ইমাম কমিটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা ইলিয়াস আলী মোল্লা। জানাজায় অংশ নেন নিহতদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ জেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষ।