ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রাতেই মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ পিএম
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই ঐতিহ্যবাহী শক্তি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে একে অপরের বিপক্ষে মাঠে নামছে দুই দল, আর সেটিও সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে।
আটালান্টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশেষ করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ঘিরে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এই প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সঙ্গেও প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছেন মেসি।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা নকআউট পর্বে কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে। তিনটি নকআউট ম্যাচের মধ্যে দুটি জিততে হয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। এ পর্যন্ত দলটি ৯টি গোল করলেও হজম করেছে ৫টি, যা রক্ষণভাগের দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রতিপক্ষের দ্রুত পাল্টা আক্রমণে একাধিকবার চাপে পড়তে হয়েছে আকাশি-নীলদের। নিকোলাস তালিয়াফিকো, গনসালো মন্তিয়েল ও নাহুয়েল মোলিনার পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত না হলেও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজ কিছুটা ভরসা জুগিয়েছেন।
মধ্যমাঠেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি আর্জেন্টিনা। কার্যকর উইঙ্গারের অভাবে রদ্রিগো দে পল ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব এসে পড়েছে। তবে দলের লড়াকু মানসিকতা এবং খেলোয়াড়দের পারস্পরিক বোঝাপড়া এখনো বড় শক্তি হয়ে আছে।
আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজ গোলের দেখা পাওয়ায় স্বস্তিতে আছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও এই দুই ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে বড় অবদান প্রত্যাশা করছেন তিনি। আর বড় ম্যাচে মেসির জাদুকরী মুহূর্ত তৈরি করার সক্ষমতা আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় আশার জায়গা।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডও নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচের আগে দলীয় অন্দরমহলে কিছু মতবিরোধের গুঞ্জন থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব না পড়ার আশা ইংলিশ শিবিরের। দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। পাশাপাশি অ্যান্থনি গর্ডন হতে পারেন দলের চমক। গোলবারে জর্ডান পিকফোর্ডের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও ইংল্যান্ডকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। বুকায়ো সাকা ও ডেকলান রাইসদের কাছ থেকেও বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার প্রত্যাশা রয়েছে।
বিশ্বকাপে এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। সেখানে ইংল্যান্ডের তিনটি এবং আর্জেন্টিনার দুটি জয় রয়েছে। তবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই প্রথম দেখা হচ্ছে তাদের। এখন দেখার বিষয়, আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠতে পারে, নাকি প্রায় ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ইংল্যান্ড নিশ্চিত করবে শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চ।