এবার ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ আনার ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সাধারণ মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সব কল্যাণমূলক সেবা একক ব্যবস্থার আওতায় আনতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের সরকারি কার্ডের পরিবর্তে একটি কার্ডের মাধ্যমেই নাগরিকরা প্রয়োজনীয় সব সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রথম বাজেটের সমাপনী বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব পালন করাই সরকারের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য চালু থাকা বিশেষ কার্ডগুলো কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের অংশ। এসব সুবিধাকে একীভূত করেই ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা একটি পরিচয়পত্রের মাধ্যমেই বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সুবিধা পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কৃষি ও প্রান্তিক কৃষকদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি জানান, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এর সুফল ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগে সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করলে দেশের প্রান্তিক মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও জনগণের কল্যাণের প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, অতীতের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, ইকোট্যুরিজমসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচির ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ উদ্যোগের আওতায় প্রতিবছর গড়ে ৫ কোটি চারা রোপণ করা হবে। একই সঙ্গে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের সমর্থনে বাস্তবায়নাধীন ৩১ দফা এখন দেশের মানুষের উন্নয়ন ও অগ্রগতির রূপরেখায় পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও পেশাদার করা এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের কার্যক্রমও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বৈষম্যহীন, উগ্রবাদমুক্ত ও গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970