প্রশ্ন আমরা করিনি, করেছে বিগত সরকার, পদার্থবিজ্ঞানের ভুলের ব্যাখ্যায় শিক্ষামন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকার ঘটনায় দায় পূর্ববর্তী সরকারের ওপর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাই এই প্রশ্নপত্র বর্তমান সরকারের তৈরি নয়; বরং আগের সরকারের সময় দায়িত্বে থাকা মডারেটরদের প্রস্তুত করা প্রশ্নেই এ ধরনের ত্রুটি ছিল। তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় ভুল থাকা দুটি প্রশ্নে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
রুমিন ফারহানা বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি বিবেচনা করা হয়নি। তিনি জানতে চান, এমন পরিস্থিতিতে কয়েক দিনের জন্য এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা স্থগিত রাখতে কী ধরনের সমস্যা ছিল।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে পুরো শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, পরীক্ষার আগের দিন আবহাওয়া পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। এ সময় দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আবহাওয়া কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে বলে মত দেওয়ায় পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে পরদিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, পরিস্থিতির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে একটি পাঁচতলা ভবনে নেওয়া হয়। সেখানে বিকল্প ব্যবস্থায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোনো কেন্দ্র থেকে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা এ ধরনের সমস্যার তথ্য জানাননি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, কুমিল্লার ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের পরে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যেসব পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, দেশের বিদ্যমান পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় দুর্যোগ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রয়োজনে কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষা স্থগিতের ক্ষমতাও তাদের রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছিল এবং তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার তথ্যই জানিয়েছিলেন।