চাঁদাবাজির তথ্য দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটুনি, অভিযুক্ত বিএনপি নেতা
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ এএম
যশোরের শার্শা উপজেলায় চাঁদাবাজির তথ্য গণমাধ্যমে দেওয়ায় কামাল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে দ্বিতীয় দফায় বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে কথিত বিএনপি নেতা হজরত আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, হজরত আলীর অনুসারী সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা থানায় মামলা করতেও সাহস পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িত রয়েছে ওই চক্রটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষি জমিতে সেচ নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে বুধবার সন্ধ্যায় কামাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হামলা চালানো হয়। এ সময় ভাঙচুরের পাশাপাশি ক্যাশ ড্রয়ার থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় কামাল হোসেনের বাবা মোমরেজ আলী ও তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে আহত হন। গুরুতর জখম হন তার বাবা।
অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। হামলাকারীরা দোকান বন্ধ করে দিয়ে হুমকি দেয়, চাঁদার টাকা না দিলে ব্যবসা চালাতে দেওয়া হবে না।
এরপরের দিন সকালে দোকান খুলে গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের সামনেই আবারও হামলার শিকার হন কামাল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, হজরত আলীর নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসী রড ও লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে অজ্ঞান করে ফেলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও ভয়ের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।
হাসপাতাল থেকে কামাল হোসেন জানান, গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়াই তার জন্য কাল হয়েছে। এখনও তার বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীরা অবস্থান নিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রথম দিন পুলিশের সামনেই তার প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা পাননি।
তবে অভিযুক্ত হজরত আলী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অতীতের একটি মামলায় ক্ষতির টাকা চাইতে গিয়ে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মারুফ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।