৩ জেলার সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন চেষ্টা রুখে দিলো বিজিবি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৬০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে এসব অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তবর্তী শূন্যরেখা ও নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে আরও ২৮ জন ব্যক্তি কয়েকদিন ধরে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাদের ফিরিয়ে নিতে এখনো রাজি হয়নি বিএসএফ। বিষয়টি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইনের অন্তত ১০টি পৃথক চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রায় ৯০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
লালমনিরহাট সীমান্তে ৩৩ জন
লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
বিজিবি জানায়, সীমান্তে টহল জোরদার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের কয়েকটি এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন।
আদিতমারী সীমান্তে ১২ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে বিজিবি। সতর্কবার্তা দেওয়ার পর তারা ভারতীয় অংশে সরে যায়। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।
এ ছাড়া হাতীবান্ধা সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১১ জন এবং পাটগ্রাম সীমান্তে আরও ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বিজিবির টহল দল ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের অনুপ্রবেশ রোধ করা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই বর্তমানে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
পঞ্চগড়ে ১০ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কড়া নজরদারির কারণে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ওই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করেছে, ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের নাগরিক। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া তাদের গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে বিজিবি।
নওগাঁ সীমান্তে ১৭ জন
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাপানিয়া সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।
বর্তমানে ওই ১৭ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি কূটনৈতিক ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নিয়ম অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নো ম্যান্স ল্যান্ডে ২৮ জন
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ২৮ জন এখনও নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তারা দুর্ভোগে পড়েছেন। ভারী বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে এবং পর্যাপ্ত খাবারেরও সংকট রয়েছে। একজন বয়স্ক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।
বিজিবির দাবি, পতাকা বৈঠকে বিএসএফ ২৮ জনকে সীমান্তে এনে রাখার বিষয়টি স্বীকার করলেও পরবর্তী সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এ অবস্থায় সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।