প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসে পুলিশ সদস্য আটক
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
নীলফামারীর ডোমার এলাকায় মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আতিকুর রহমান নামের এক পুলিশ সদস্য গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন। পরে রাত প্রায় ১১টার দিকে মুচলেকা নিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
আটক আতিকুর রহমান নীলফামারী জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ হরিরামপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডোমার থানায় কর্মরত থাকার সময় ওই পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীর শ্বশুর-শাশুড়িকে ধর্মীয় বাবা-মা হিসেবে সম্বোধন করতেন এবং নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এর মাধ্যমে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গেও তার যোগাযোগ বাড়ে এবং পারিবারিক নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হতো।
প্রায় চার মাস আগে পারিবারিক সমস্যার বিষয়ে পরামর্শ নিতে ওই নারী আতিকুর রহমানের সঙ্গে নীলফামারী আদালতে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে শ্বশুরবাড়িতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরপর থেকে ওই নারী বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছিল। এ সময় হঠাৎ আতিকুর রহমান ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং পরামর্শ নিতে আদালতে গিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, তার সংসার ভেঙে গেলে এর দায় আতিকুর রহমানকেই নিতে হবে।
অন্যদিকে, নারীর শ্বশুর জানান, ধর্মীয় বাবা-মায়ের সম্পর্কের সূত্র ধরে আতিকুর তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। পরে পারিবারিক ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
আতিকুর রহমানের দাবি, পারিবারিক সম্পর্কের কারণে তিনি খোঁজখবর নিতে যেতেন এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় পরে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
ডোমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিয়ের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে মুচলেকা নিয়ে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ লাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আতিকুর রহমান গতকাল কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে বিষয়টি জানার পর থানা পুলিশ তাকে গ্রাম থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।