নিজের বিয়ে বন্ধে থানায় গিয়ে আশ্রয় নিলেন এসএসসি পরীক্ষার্থী
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম
নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে এক মাধ্যমিক সমাপনী পরীক্ষার্থী। পরিবারের চাপ উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত থানায় গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় সে। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার চাড়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীর নাম তাহমিনা আক্তার। তিনি স্থানীয় একটি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার তাহমিনার বাবা আলম হাওলাদার মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেন। পাত্র হিসেবে একজন প্রবাসী যুবককে নির্বাচন করা হয়। তবে এ বিয়েতে রাজি ছিল না তাহমিনা। বিয়ে ঠেকাতে সে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানায়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হস্তক্ষেপ করে তাহমিনার বাবার কাছ থেকে বাল্যবিয়ে না দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার নেয় এবং তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, শুক্রবার রাতেই আবারও তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে শনিবার সকালে আবারও থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয় ওই শিক্ষার্থী।
থানায় গিয়ে তাহমিনা জানায়, তাকে আবার বাড়িতে পাঠানো হলে জোর করে বিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই মাধ্যমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে। সে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায় এবং প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে।
এ বিষয়ে তাহমিনার বাবা আলম হাওলাদার বলেন, দারিদ্র্যের কারণে তিনি ভালো পাত্র পেয়েই বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। তবে মেয়ের অনিচ্ছার কারণে তিনি এখন সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন এবং উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে জানান।
পুলিশ জানায়, ওই শিক্ষার্থী বাল্যবিয়ে এড়াতে দুইবার থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। পরে অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।