যশোরের হাট মাতাচ্ছে ১৪ লাখ টাকার ‘বিসিএস ক্যাডার’
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৯:০২ পিএম
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যশোরের পশুর হাটে এবার ব্যাপক আলোচনায় এসেছে বিশাল আকৃতির একটি ব্রাহমা জাতের ষাঁড়। ব্যতিক্রমধর্মী নাম ‘বিসিএস ক্যাডার’ হওয়ায় গরুটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহও বেড়েছে কয়েকগুণ। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গরুটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন।
যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর এলাকার বাসিন্দা মহিদুল জামান কাজল পেশায় সমবায় অধিদপ্তরের অডিট অফিসার। ২০১৭ সালে মাত্র পাঁচটি গরু দিয়ে খামার শুরু করলেও বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৪২টি গরু। আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তিনি গরুগুলো প্রস্তুত করেছেন বিক্রির জন্য।
খামারের সবচেয়ে আকর্ষণ ‘বিসিএস ক্যাডার’ নামের ব্রাহমা জাতের ষাঁড়টির ওজন প্রায় এক হাজার কেজি। গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিশাল দেহ, উজ্জ্বল গায়ের রঙ ও দৃষ্টিনন্দন গড়নের কারণে এটি ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে।
খামারি কাজল জানান, প্রায় ১০ মাস আগে গরুটি কেনার পর থেকে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে। কঠোর পরিচর্যা ও পরিশ্রমের কারণে শখ করে এর নাম রাখা হয়েছে ‘বিসিএস ক্যাডার’। তার ভাষায়, একজন শিক্ষার্থী যেমন বিসিএস ক্যাডার হতে দীর্ঘ প্রস্তুতি নেয়, তেমনি এই গরুটিকেও আলাদা যত্নে বড় করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গরুটির জন্য বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থা রয়েছে। দিনে দুইবার শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। সার্বক্ষণিক ফ্যান চালিয়ে রাখা হয় এবং মশা থেকে রক্ষায় ব্যবহার করা হয় কয়েল।
এ ছাড়া তার খামারে রয়েছে ১ হাজার ১০০ কেজি ওজনের একটি হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরু, যার দাম ধরা হয়েছে ১১ লাখ টাকা। পাশাপাশি ৮৭৫ কেজি ওজনের একটি শাহীওয়াল জাতের গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ লাখ টাকা।
খামারি কাজল বলেন, তার খামারের গরুগুলোকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়। খাদ্য তালিকায় রয়েছে কুঁড়ো, গম, ভুট্টা, ছোলা, সবুজ ঘাস, বিচালি, সয়াবিন ও সরিষার খৈলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান। প্রতিদিন গরুর পেছনে প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয় হয় বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, প্রত্যাশিত দাম না পেলেও ‘বিসিএস ক্যাডার’ বিক্রি নিয়ে তার তেমন কোনো চিন্তা নেই।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর যশোরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭টি পশু। জেলার চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ১২৮টি হলেও উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১৪ হাজার ৮৪৯টি পশু।
বর্তমানে জেলায় খামারির সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৪০ জন। এর মধ্যে রয়েছে ২৮ হাজার ৮৪৪টি ষাঁড়, ৩৬ হাজার ২৫৯টি গাভী, ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল এবং ৪৪২টি ভেড়া।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, যশোরের কোরবানির পশু স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সরবরাহ করা হবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় যশোরের পশুর চাহিদা বেশি।
তিনি আরও বলেন, খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এ কারণে দানাদার খাদ্যের পরিবর্তে বেশি করে সবুজ ঘাস ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ না করার বিষয়েও তারা নিশ্চিত হয়েছেন।