মনোহরদীর ‘বিষফোড়া’ কথিত সাংবাদিক শাকিলের অপকর্মে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪৪ পিএম
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় কথিত সাংবাদিক কাজী শরিফুল ইসলাম ওরফে শাকিলের বিরুদ্ধে ভুয়া সাংবাদিকতা, চাঁদাবাজি, হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। তার কর্মকাণ্ডে বিব্রত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাংবাদিকতার আড়ালে শাকিল দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, মিথ্যা প্রচার ও মানহানিকর কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তিনি দেশের স্বীকৃত কোনো টেলিভিশন, পত্রিকা বা অনলাইন গণমাধ্যমে কাজ করেন না। নিজের ফেসবুক আইডিতেই নানা বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট দিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে উদ্দেশ করে তার ফেসবুকে “বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে” মন্তব্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও তার পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের কারণে আবারো আলোচনায় আসেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, ইউএনও তার অবৈধ দাবি পূরণ না করায় তিনি এমন অপপ্রচার চালান। এর আগেও বিভিন্ন ইউএনওর বিরুদ্ধেও তিনি অনুরূপ মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মনোহরদী উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সোহাগ এবং পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ বকুলসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, শাকিল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক শিল্পমন্ত্রীপুত্র মঞ্জুরুল মজিদ মাহমুদ সাদীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন।
৫ আগস্টের পর বিএনপি ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে উল্টো বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও কুৎসা রটানো শুরু করেন তিনি।
অনেকে জানান, চাঁদা না দিলে ফেসবুকে মিথ্যা অপপ্রচারই তার অস্ত্র। এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় যুবকরা একাধিকবার তাকে গণধোলাইও দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
চন্দনবাড়ী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু রায়হান ভূঁইয়া বলেন, “শাকিল আমার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর পোস্ট দিয়েছেন। একজন শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অসম্মানজনক। তার এমন অপপ্রচারে আমাদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
একই অভিযোগ করেছেন মনোহরদী কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলামও। তিনি জানান, “শাকিল কলেজ কমিটিতে যুক্ত হওয়ার দাবি করেছিলেন। তা পূরণ না করায় তিনি ইউএনও ও আমাকে হুমকি দিচ্ছেন এবং কুৎসা রটাচ্ছেন।”
খিদিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আপন ভূঁইয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে শাকিল সাবেক শিল্পমন্ত্রীপুত্র সাদীর প্রভাব দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেন। সম্প্রতি আবারও চাঁদা দাবি করেন। না দিলে ফেসবুকে আমার নামে অপপ্রচার শুরু করেন।” এমন অভিযোগ শুধু আপন ভূঁইয়া নন, আরও অনেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
মনোহরদীর স্বীকৃত সংবাদকর্মীরা জানান, শাকিলকে তারা কোনোভাবেই সাংবাদিক হিসেবে স্বীকৃতি দেন না। তার মতো অপসাংবাদিকের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই শাকিলের মূল লক্ষ্য। তবুও এত অভিযোগের পরও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
মনোহরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি ও পৌর জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “আমি হাতিচরে এক সাবেক জেলা প্রশাসকের আত্মীয়ার সঙ্গে বিয়ে করেছি। কিন্তু শাকিল ওই বিয়ে নিয়ে মনোহরদী বাজার মসজিদের মুয়াজ্জিনকে জড়িয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এর মাধ্যমে তিনি সামাজিকভাবে মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করেন।”
তথ্যানুসারে, কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে: ধানমন্ডি থানার মামলা নং ৪ (২ সেপ্টেম্বর ২০১৫), মনোহরদী থানার মামলা নং ৯/৭৯ (১২ এপ্রিল ২০২০) ও মনোহরদী থানার মামলা নং ৭/৭৬ (৮ আগস্ট ২০২২)
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। এমনকি জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন তার বিরুদ্ধে প্রতারক হিসেবে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, “বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) থেকে পাশ করা সাংবাদিক দাবি করেন। তবে ব্ল্যাকমেইল ও অপপ্রচারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্লক করে দেন।