পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার গ্রেপ্তার

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাস পড়ে যাওয়ার ঘটনায় বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নৌ-পুলিশ। মামলার পর শনিবার (৬ জুন) তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর এলাকার বাসচালক মো. ঝন্টু আলী (৪৮), কুষ্টিয়ার সুগ্রীবপুর এলাকার সুপারভাইজার মো. আজমল হোসেন (৩৮) এবং একই উপজেলার আলামপুর এলাকার হেলপার শাকিব হোসেন (২২)।

এর আগে শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় রাতে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবুজার গিফারী বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে মেহেরপুরের গাংনী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের একটি বাস ফেরিঘাটে পৌঁছায়।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার জন্য চালককে নির্দেশ দেন নৌ-পুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীরা বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে ফেরির দিকে যেতে থাকেন।

এর কিছুক্ষণ পর বাসচালক ঝন্টু আলী বাসটি চালু করে বেপরোয়াভাবে চালাতে শুরু করেন। নির্ধারিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ ফেরিতে না তুলে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরিতে উঠে যায়। পরে ফেরির শেষ প্রান্তের র‌্যাম্পে সজোরে ধাক্কা লাগলে র‌্যাম্পের শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে গিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

পুলিশের তথ্যমতে, বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার আগেই সুপারভাইজার ও হেলপার লাফিয়ে ফেরিতে নেমে যান। অন্যদিকে চালক সাঁতরে পন্টুনের কাছে পৌঁছালে নৌ-পুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনায় ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরির র‌্যাম্প, ক্যাবল ও শিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীদের কিছু ব্যাগ ও মালামাল পানিতে ভিজে, ডুবে বা হারিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, নৌ-পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার তিনজনকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970