রাজশাহীতে বিচারকের ছেলেকে হত্যার ঘটনায় যা জানালো পুলিশ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১০:২০ এএম
রাজশাহীতে বিচারকের বাসায় খুন হওয়া তার ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনের দেহে শ্বাসরোধের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, নবম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া তার এক পায়ের আঙুলও কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহী নগরের ডাবতলা এলাকার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান বলেন, সুমনের গলায় শ্বাসরোধের চিহ্ন রয়েছে এবং তার হাঁটুর নিচে পায়ের এক আঙুল কাটা। ঘটনাস্থলের আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধেই হত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে।
ঘটনার সময় হামলাকারীর ছুরিকাঘাতে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার (৪৪) গুরুতর আহত হন। পুলিশ অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে (৩৫) আটক করেছে। তিনি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। লিমনসহ আহত দুজনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লিমনের হাত, মাথা ও পায়ে জখম রয়েছে, আর তাসমিন নাহারের পেট ও ঊরুতে আঘাত পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, লিমন একটি ব্যাগ নিয়ে বাসায় ঢুকে ডাইনিং টেবিলে বসে তাসমিন নাহারের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি হঠাৎ ব্যাগ থেকে ছুরি বের করেন। তাসমিন নাহার দৌড়ে একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করলে লিমন লাথি মেরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। শব্দে পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সুমনের ঘুম ভেঙে গেলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে লিমনকে আটকাতে চেষ্টা করেন। পুলিশ ধারণা করছে, তখনই ওড়না জাতীয় কিছু দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। বাসার কাজের মেয়ে বাইরে গিয়ে প্রতিবেশীদের ডেকে আনলে তারা পুলিশে খবর দেয়।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, বিচারকের স্ত্রীর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। রাত ৯টার দিকে জানা যায়, হামলাকারী লিমনের জ্ঞান ফিরেছে এবং পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সুমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।