মাদক কারবারিকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, চার পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
আটক এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে অর্থের বিনিময়ে গাড়িসহ ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। পরদিন শুক্রবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শাহাদত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক রিমন মিয়া ও তুহিন মিয়া এবং সহকারী উপপরিদর্শক আবদুল হাকিম ও লুৎফর রহমান। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান সরকার এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রওশন কবীর।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই সীমান্ত এলাকা থেকে আটক এক সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান অভিযুক্ত চার কর্মকর্তা। সেখানে একটি সাদা প্রাইভেট কার, একটি মালিকবিহীন মোটরসাইকেল এবং জব্দ করা মাদকদ্রব্যও নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্য ও এক চৌকিদারের সহায়তায় মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ওই ব্যক্তিকে তার প্রাইভেট কারসহ ছেড়ে দেওয়া হয়। পুরো ঘটনাটি ইউনিয়ন পরিষদের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত চৌকিদার রবিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, উপপরিদর্শক তুহিন মিয়া তাকে একটি সাদা কাগজ আনতে বলেন। পরে সেই কাগজে একটি মুচলেকা লিখে আটক ব্যক্তির স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে মুচলেকায় কী লেখা ছিল, তা তিনি জানেন না। এরপর পুলিশ সদস্যরা গাড়ি নিয়ে চলে যান।
একই ইউনিয়নের আরেক চৌকিদার মো. শামীম জানান, মালিকবিহীন মোটরসাইকেলটি পরে রংপুর থেকে আসা এক ব্যক্তি নিয়ে যান।
তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদত হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জমা দেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপপরিদর্শক তুহিন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অপর তিন কর্মকর্তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।