গোপালগঞ্জে বিএনপি নেতার চাঁদা তোলার ভিডিও ভাইরাল, এলাকাবাসীর ক্ষোভ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৫০ পিএম
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার নৈয়ারবাড়ী মেলায় এক বিএনপি নেতার চাঁদা তোলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি সুখরঞ্জন ওরফে ধলুকে মেলার দোকান থেকে চাঁদা আদায় করতে দেখা যায়। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতারাও স্বীকার করেছেন।
সাদুল্লাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ গাইন বলেন, “ভিডিওটি আমরাও দেখেছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। উপজেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ধলুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কার্তিক পূজা উপলক্ষে গত ১৮ নভেম্বর নৈয়ারবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুরু হওয়া এ মেলা শুক্রবার শেষ হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলা আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ধলুর নেতৃত্বে প্রতি স্টল থেকে ৫০০ থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক চাঁদা তোলা হয়েছে। এছাড়া জেনারেটর ব্যবহারের জন্য দোকানপ্রতি ৩০০ টাকা আদায় করেছে ধলুর ছেলে ছাত্রদল নেতা উত্তম।
শ্রীফলবাড়ি গ্রামের ফুচকা ও চটপটির স্টল মালিক পুলিন মৃধা বলেন, তার দোকান থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার ভাইয়ের দোকান থেকে দুই হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে। চাঁদা না দিলে হামলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। তার দাবি, “আমি বিভিন্ন জায়গায় মেলায় দোকান দিই, কিন্তু এভাবে কোথাও চাঁদা নিতে দেখিনি।”
কসমেটিকস স্টল মালিক আকাশ অধিকারী বলেন, আগে মেলা হলে অনুষ্ঠান-পুরস্কারের জন্য স্বেচ্ছায় টাকা দেওয়া হতো। এখন কোনো অনুষ্ঠান নেই, বরং ধলু ও স্থানীয় এক শিক্ষকসহ কয়েকজন জোরপূর্বক ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।
চায়ের দোকান মালিক লক্ষ্মী বিশ্বাস বলেন, “প্রথম এসেই এমন অভিজ্ঞতা হবে ভাবিনি। চায়ের দোকান থেকে ৫৫০ টাকা চাঁদা দিয়েছে এবং জেনারেটর ফি বাবদ আরও ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে। টাকা না দিলে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে ধলু ও সহকারী শিক্ষক বাসুদেবের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
ভাঙ্গারহাট নৌ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এমদাদুল হক জানান, মেলার জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়নি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাগুফতা হক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা করতে হলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করা হবে।