মসজিদে নামাজ চলাকালে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:০৩ পিএম
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মসজিদে নামাজ চলাকালীন সময় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার দেউলভোগ দয়হাটা বায়তুল আমান জামে মসজিদে।
পুলিশ জানায়, মুন্সিগঞ্জ–১ আসনে বিএনপির মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যেই মসজিদের ভেতর হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আওলাদ হোসেন উজ্জ্বলের শ্বশুরের জানাজায় যোগ দিতে কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু দয়হাটায় আসেন। এ সময় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শেখ আব্দুল্লাহর সমর্থক ও উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা তরিকুল ইসলাম তার পথরোধ করেন।
জানাজা শেষে সপু নামাজ পড়তে মসজিদে গেলে তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা সপুর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়ও হামলার পুনরাবৃত্তি হয়। এতে সপুর দু’জন সমর্থকসহ কয়েকজন আহত হন।
আহত মমিনুল ইসলাম ফাহিম (২০) ও আব্দুর রহিম (৪৭) চিকিৎসার জন্য শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, তাদের মাথায় আঘাত থাকলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
আহতরা অভিযোগ করেছেন, হামলার পেছনে বিএনপি প্রার্থী শেখ মো. আব্দুল্লাহর সমর্থকদের হাত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে প্রার্থী শেখ আব্দুল্লাহ জানান, তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তার অনুসারী শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খান বলেন, মোটরসাইকেল–গাড়ির ধাক্কা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয় এবং তরিকুলকে মারধরের কথাও তিনি শুনেছেন। তবে তরিকুল বহিষ্কৃত নেতা এবং তাদের সমর্থক নন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রাখে। শ্রীনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা খান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে, হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেন মীর সপু সমর্থকেরা।