পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ৪, বিজেপির মিছিল থেকে মাংসের দোকানে ভাঙচুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১১:৩০ পিএম
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে বেলঘাটায় তৃণমূলের পোলিং এজেন্ট বিশ্বজিৎ পাটনায়েক (৪৫) নিহত হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ফোন পেয়ে তিনি ঘর থেকে বের হলে বাড়ির দরজার কাছেই তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
পুলিশের ধারণা, তাকে ধাওয়া করা হয়েছিল এবং পালানোর সময় তিনি ছাদ থেকে পড়ে মারা যান। তবে পরিবারের দাবি, তাকে ঘর থেকে টেনে বের করে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। এক স্বজন জানান, দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়, ভয়ে প্রতিবেশীরাও এগিয়ে আসতে পারেনি।
এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অন্যদিকে বিজেপি এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পালানোর সময় তিনি একটি পানির কলের ওপর পড়ে যান। সেটি ভেঙে যাওয়ায় পানি প্রবাহে ঘটনাস্থলের রক্ত ধুয়ে যায়, ফলে সেখানে রক্তের চিহ্ন কম দেখা গেছে।
এদিকে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয় দখল, ভাঙচুর এবং পতাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। কলেজ স্ট্রিট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রাজধানীর বাইরে উদয়ননারায়ণপুরে যাদব বার (৪৫) নামে এক বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে নানুর এলাকায় আবীর শেখ (৪৫) নামে এক তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুই দলই একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপালেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
নিউমার্কেট এলাকায় বিজেপির বিজয় মিছিল ঘিরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই মিছিল থেকে বুলডোজার ব্যবহার করে একটি মাংসের দোকান ভাঙা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন তৃণমূলের সংসদ সদস্য ডেরেক ও’ ব্রায়েন। তিনি দাবি করেন, পুলিশের অনুমতি নিয়েই মিছিল চলছিল এবং সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে দোকান ভাঙা হয়।
তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, মিছিলের অনুমতি থাকলেও বুলডোজার ব্যবহারের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দুই দলই একে অপরকে দায়ী করছে এবং রাজ্যজুড়ে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত রয়েছে।